
ভারতের উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে আবারও তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। মঙ্গলবার(৭ জুলাই) রাত ৮টায় নীলফামারীর ডিমলার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার (৫২ দশমিক ০৮) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েছে বাপাউবো। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের তিস্তা নদীর পানি পরিমাপ নুরুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সকাল ৬ হতে বিকাল ৬ পর্যন্ত ১২ ঘন্টায় তিস্তার পানি ১৮ সেন্টিমটার বৃদ্ধি পেয়েছে। এরমধ্যে বেলা ৩টা থেকে বিকাল ৬টা ৩ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি ১৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পায়। এরআগে সকাল ৬টা ও ৯টায় তিস্তার লেবেল ছিল ৫১ দশমিক ৮৫, বেলা ১২ টায় ৫১ দশমিক ৮৬ এবং বেলা ৩টায় ৫১ দশমিক ৮৭। বিকাল ৬ টায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৫২ দশমিক ০৩ সেন্টিমিটার; যা বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী তিন দিনে দ্রুত বাড়তে পারে। এর মধ্যে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে ধরলা ও দুধকুমার নদী লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার কিছু স্থানে সতর্ক সীমায় পৌঁছাতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহান নিশ্চিত করেছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, বেলা ৩টা থেকে ৬টা পর্যন্ত তিন ঘন্টায় তিস্তা নদীর পানি ১৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পায়। বিকাল ৬টায় তিস্তা নদী বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার (৫২.০৩) ও রাত ৮টায় ৭ সেন্টিমিটার (৫২.০৮) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারেজে ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। তিস্তায় কমলা সংকেত জারি করা হয়েছে।
উল্লেখ যে, চলতি বর্ষা মৌসুমে তিস্তা নদী প্রথম বিপৎসীমা অতিক্রম করে ২৩ জুন। সেসময় বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। এরপর পানি নেমে যায়। দ্বিতীয় দফায় ২৮ জুন বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহিত হয়েছিল। যার ১২ ঘন্টা পর পানি কমে বিপৎসীমার নিচে নেমে আসে।