1. online@69bd.tv : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. admin@69bd.tv : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৯:৪৯ অপরাহ্ন

কুড়িগ্রামে ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত  রেকর্ড,  বিপাকে কৃষক

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
  • ২০ বার পঠিত
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি,
কুড়িগ্রামে গত ২৪ ঘন্টায় রেকর্ড পরিমাণ অতিভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) দিবাগত মধ্যরাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত অতিভারী বর্ষণের ফলে জেলাজুড়ে বোরো জমি নিমজ্জিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘন্টার বৃষ্টিতে অনেক জমিতে ধান গাছের গলা পর্যন্ত পানি জমে গেছে। নিমজ্জিত হওয়া পাট ও সবজি খেত নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। পাকা ও অর্ধপাকা ধান আর খড় নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজি বিভাগ জানায়, বুধবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় কুড়িগ্রামে ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত (অতিভারী) রেকর্ড করা হয়েছে। আর জেলার রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় তারা ১৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। আগামী ৭২ ঘন্টা ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত চলমান থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে স্বল্পদিনের বিরতিতে আবারও ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে বোরো ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। মাড়াই করাসহ জমিতে থাকা ধান নিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন তারা। খড় শুকানো নিয়ে তাদের বিড়ম্বনা দুর্দশায় পরিণত হচ্ছে। কৃষাক-কৃষাণিদের মুখের হাসি ম্লান হয়ে কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ধানের বাম্পার ফলনেও আনন্দ নেই তাদের।
চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের কৃষক মোনাল বলেন, ‘ ধান আর খড় নিয়া বিপদে আছি। যেগুলা ধান কাটছি তার পোয়াল (খড়) শুকবার পাবানচি না (পারছি না)। এলাও জমিত পাকা ধান পড়ি আছে। এমন করি ঝড়ি হইলে কাটমো কেমন করি! আবাদের টাকা এবার পানিতে শেষ!’
জেলা সদরের চরুয়াপাড়া গ্রামের কৃষাণি রেশমা বেগম বলেন, ‘ কাইল ধান কাটি বাড়ি আনছি। জমিত ছিল ভালে ছিল। এলা ধান নিয়ারও বিপদ, পোয়াল নিয়াও বিপদ। এবার কপালত কী আছে আল্লায় জানে!’
জেলার কৃষি বিভাগ বলছে, গত তিন দিনে জেলায় ধান কাটার হার ভালো ছিল। কিন্তু এখনও প্রায় ৫০ ভাগ বোরো আবাদ জমিতেই রয়ে গেছে। জমিতে থাকা বেশিরভাগ ধান কাটার উপযুক্ত হলেও ফের শুরু হওয়া বৃষ্টিপাতের কারণে কাটা সম্ভব হচ্ছে না। গত ২৪ ঘন্টার বৃষ্টিতে অনেক জমিতে ধানের শীষের কাছাকাছি পর্যন্ত পানি জমে গেছে। নিমজ্জিত হওয়া পাট ও সবজি খেত নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ১৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। প্রায় অর্ধেক পরিমাণ জমির ধান কাটা হলেও এখনও ৫০ ভাগ জমিতে পাকা ধান রয়ে গেছে। ভারী বৃষ্টিপাতে এসব জমির ধান গাছের গলা পর্যন্ত পনি জমে গেছে। বৃষ্টিপাতের কারণে খড় পঁচে যাওয়ারও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ রাত থেকে ভারী বৃষ্টিতে ধানের জমিতে পানি জমে গেছে। অনেক জমিতে ধান গাছের গলা পর্যন্ত পানি জমে গেছে। গত তিন দিন ধরে অনেক ধান কাটা হলেও এখনও প্রায় অর্ধেক জমির ধান কাটা বাকি আছে। পানি নেমে গেলে কৃষকরা এসব ধান কাটবেন। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।’
ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এই কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘ প্রায় সব জমির ধান পেকে গেছে। পানি নেমে গেলে সেসব কাটা যাবে। পানিতে নিমজ্জিত কিছু জমির পাট ও সবজি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বৃষ্টি থেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করা যাকে। কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়তো হবে। সকালে মাঠ পরিদর্শনে গিয়ে দেখেছি অনেক কৃষকের অর্ধ শুকনো খড় আবার ভিজে গেছে। খড় পঁচে গেলে প্রাণী খাদ্যের সংকট হতে পারে।’
রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, ‘ এই অঞ্চলে গত পাঁচ বছরের মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ৭২ ঘন্টা এই অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2019
Design By Raytahost