শূন্যরেখায় শিশু নারীসহ ৬ জনকে খাবার পানি দিচ্ছে সীমান্তবাসী
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
আপডেট টাইম :
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬
১৯
বার পঠিত
সরেজমিনে রৌমারীর গয়টাপাড়া সীমান্ত গিয়ে দেখা গেছে, প্রচন্ড রোদে মাথার উপর সামান্য প্লাস্টিক টাঙ্গিয়ে তার নিচে ৬ মাসের শিশুকে নিয়ে অবস্থান করছেন এক দম্পতি। সাথে সেই দম্পতির আরেক শিশু সন্তান রয়েছে যার বয়স আড়াই থেকে তিন বছর। এই দম্পতির সাথে রয়েছে আরও দুই যুবক।
স্থানীয়রা জানান, টানা দুইদিন রাত ৬ মাসের শিশুকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থানের পর মাথার উপর সামান্য প্লাস্টিক টাঙ্গানো হয়েছে
পুশইনের শিকার ৬ জনকে ১০৬০ আর্ন্তজাতিক পিলার সংলগ্ন এমন ফাঁকা জায়গায় রাখা হয়েছে যার একদিকে সামান্য দুরে ভারতের কাঁটাতারের বেড়া। সেই কাঁটাতারের বেড়ার পাশে ঝালুর চর বিএসএফ ক্যাম্প। আর অন্যদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বেশ দুরত্বে খাল। কিন্তু আশে পাশে নেই কোন ঘর-বাড়ি বা দোকানপাট।
তাদের অবস্থান ঘিরে একদিকে বিএসএফ আর অন্যদিকে বিজিবি অস্ত্র হাতে দিচ্ছে পাহারা। যাতে করে কোন দেশের অভ্যন্তরে তারা ঢুকতে না পারে। আর এমন পরিস্থিতি চলছে টানা তিন দিন ধরে।
সেখানে নেই প্রয়োজনীয় খাওয়া, গোসল ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা। বিএসএফ মাঝে মধ্যে তাদের খাবার দিচ্ছেন। আর দেখতে আসা গ্রামবাসী দু’এক প্যাকেট বিস্কুট দিয়ে আসছেন। এভাবেই খেয়ে না খেয়ে কাটছে তাদের সময়।
৬ মাসের শিশুসহ পুশইনের শিকার ৬ জনকে দেখতে সারাদিনই ভীড় জমাচ্ছেন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা অসংখ্য নারী-পুরুষ ও শিশু। টানা তিন ধরে বাবা-মায়ের সাথে ৬ মাসের শিশুকে এভাবে আটকিয়ে রাখায় হতবাক তারা।
গয়টাপাড়া সীমান্তের স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন জানান, শিশু দুটির উপর অমানবিক আচরণ করা হয়েছে। বিশেষ করে ৬ মাস বয়সী শিশু তো কোন পাপ করেনি। তাহলে কেন রোদ বৃষ্টিতে তাকে পুড়তে হচ্ছে। এটা মেনে নেয়া যায় না। এ ঘটনার দ্রুত সমাধান করতে দু’দেশের প্রতি আহবান জানান তিনি। আর না হলে আর্ন্তজাতিক ভাবে হস্তক্ষেপ কামনা করেন আবুল হোসেন।
পুশইন চেষ্টার সংবাদ সংগ্রহ করতে এসে গণমাধ্যমকর্মী ওয়াহিদুজ্জামান তুহিন জানান, এটা মানবাধিকার লংঘন। ৬ মাসের শিশু পুশইনের শিকার হবে কেন? কেন তাকে দিনের পর দিন ফাকা মাঠে রোদ বৃষ্টিতে পড়ে থাকতে হবে। বিবেক মানুষের কোথায়। দু’দেশ বিষয়টি দ্রুত সমাধান না করলে বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে এগিঢে আসার আহবান জানান তিনি।
জানা গেছে, কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও ভন্দুরচর সীমান্তে বিএসএফ’র কাঁটাতারের গেট খুলে তদের পুশইন চেষ্টা চালায়। এসময় বিজিবি বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রাসহ বাঁধা দিলে পুশইন চেষ্টার শিকার ৬ মাসের এক শিশুসহ দুই শিশু ও এক নারী এবং ৩ জন পুরুষের অবস্থান হয় শুন্য রেখায়।
গত রোববার সকাল ৭ টার দিকে গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে ৬ জন ও ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে ৩ যুবককে বাংলাদেশি সন্দেহে পুশইন করার চেষ্টা করলে বিজিবি ও স্থানীয়রা বাঁধা দেয়। পরে বাঁধার মুখে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রায় ৫০ গজের ভেতরে সীমান্তের শুন্য রেখা লাগোয়া ভারতের অংশে অবস্থান নেয় তারা।
এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত রোববার দুপুরের দিকে বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোন সমাধান হয়নি।
ঘটনার পর থেকে গয়টাপাড়া, ভন্দুরচরসহ রৌমারী উপজেলা সীমান্তে সতর্ক অবস্থানের রয়েছে বিজিবি’র সাথে স্থানীয়রাও।
গয়টাপাড়া বিওপির ক্যাম্পের হাবিলদার মাসুদ রানা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, যে কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি’র টহল জোরদার করা হয়েছে।
Leave a Reply