
কুড়িগ্রাম জেলায় আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে তীব্র গরমে জেলার লাখো মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিদ্যুতের এমন অনিয়মিত সরবরাহে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, দিনের পাশাপাশি গভীর রাতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। অনেক এলাকায় দিনে ৮ থেকে ১০ বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। এতে গৃহস্থালি কাজ, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন। অনেকেই রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার প্রস্তুতি ও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছেন। এছাড়া ইন্টারনেটনির্ভর কাজ, ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন ব্যবসা ও ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
নাগেশ্বরীর কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বিদ্যুৎ কখন আসবে আর কখন চলে যাবে—তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই। ফলে দৈনন্দিন কাজের পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় পানির মোটর চালানো সম্ভব না হওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কুড়িগ্রাম জেলা শাখার এজিএমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি উৎপাদন ইউনিট বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। এর প্রভাব কুড়িগ্রাম জেলার সব উপজেলাতেই পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ সরবরাহও স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তবে বিদ্যুৎ বিভাগের এ ব্যাখ্যায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, বিদ্যুৎ সংকট থাকলেও লোডশেডিংয়ের একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা হলে সাধারণ মানুষ অন্তত প্রয়োজনীয় কাজের পরিকল্পনা করতে পারবেন।
এদিকে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন নাগেশ্বরীসহ কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দারা। তারা দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে এমন দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং জনজীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে লোডশেডিং কমাবে এবং গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে চলমান সংকট দ্রুত নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
Leave a Reply