1. online@69bd.tv : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. admin@69bd.tv : admin :
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:৪২ অপরাহ্ন

“চর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন ও পৃথক বাজেটের দাবিতে কুড়িগ্রামে পদযাত্রা ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান”

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬
  • ১৯ বার পঠিত

চর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন, চরাঞ্চলের জন্য পৃথক বাজেট বরাদ্দ, নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন সহ ১০ দফা দাবিতে কুড়িগ্রামে পদযাত্রা, সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছে চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ।

বুধবার (১৭ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুড়িগ্রাম শহরের ঘোষপাড়াস্থ সিংহ চত্বর থেকে সংগঠনের উদ্যোগে একটি পদযাত্রা বের হয়। পদযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

এসময় সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আশরাফুল হক রুবেল, অধ্যক্ষ খাজা শরীফ উদ্দিন রিন্টু, অধ্যক্ষ শাহ আলম, অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান, ইমান আলী, রফিকুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু, অধ্যাপক নাজমুন নাহার বিউটি, বিএম আবুল হোসেন, ইউসুফ হোসেন, অধ্যাপক গোলাম রসুল রাজা, ইয়াসিন আলী, সাইফুল ইসলাম বাদল সহ অন্যরা।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, “বাংলাদেশের চরাঞ্চলে বসবাসকারী লাখো মানুষ আজও উন্নয়নের মূলধারার বাইরে রয়ে গেছে। নদীভাঙন, দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং অবকাঠামোগত অনগ্রসরতা চরবাসীর নিত্যসঙ্গী। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের মাধ্যমে বিচ্ছিন্নভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হলেও চরাঞ্চলের জন্য সমন্বিত কোনো পরিকল্পনা নেই। তাই চরবাসীর অধিকার ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একটি স্বতন্ত্র চর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন অপরিহার্য।” তিনি আরও বলেন, “পার্বত্য অঞ্চলের জনগণ দীর্ঘ ৩৬ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করে পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলের উন্নয়নে নতুন গতি এসেছে। চরবাসীরাও তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ। প্রয়োজন হলে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে চর বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার দাবি বাস্তবায়ন করা হবে।”

সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আশরাফুল হক রুবেল বলেন, “প্রতি বছর নদী ভাঙনে হাজার হাজার পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। অনেকেই বছরের পর বছর রাস্তার পাশে, বাঁধে কিংবা অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অথচ ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কার্যকর ক্ষতিপূরণ ও স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। এটি একটি মানবিক সংকট, যা সমাধানে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন।” তিনি আরও বলেন, “জাতীয় বাজেটে চরাঞ্চলের জন্য পৃথক বরাদ্দ না থাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না। চরাঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি, কর্মসংস্থান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে নদীভাঙনকবলিত মানুষের অধিকার সুরক্ষায় একটি পৃথক ‘নদীভাঙন ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন আইন’ প্রণয়ন করা জরুরি।”

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের লাখো চরবাসী এখনো বিশুদ্ধ পানি, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসেবা, মানসম্মত শিক্ষা ও নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত। নদীভাঙন শুধু বসতভিটাই কেড়ে নিচ্ছে না, মানুষের স্বপ্ন ও জীবিকার ভিত্তিও ধ্বংস করে দিচ্ছে। এই বাস্তবতায় চরাঞ্চলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের বিকল্প নেই।

পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে চর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন, চরবাসীর জন্য পৃথক বাজেট, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন, নদীশাসন ও নদীতীর সংরক্ষণে টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে চরবাসীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে বিভিন্ন চরাঞ্চল থেকে আগত নারী-পুরুষ অংশ নেন। তাঁরা চরবাসীর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দ্রুত দাবিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। শেষে নেতারা বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2019
Design By Raytahost