
নওগাঁয় স্ত্রী হালিমা খাতুন হত্যা মামলায় মোঃ শামীম সরদার নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৮ আগস্ট হালিমা খাতুনের সঙ্গে শামীম সরদারের রেজিস্ট্রি কাবিনমূলে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা ঢাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। পরে হালিমা অন্তঃসত্ত্বা হলে তাকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। অভিযোগ রয়েছে, কন্যাসন্তান জন্মের পর শামীম স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে যেতে নানা অজুহাত দেখাতেন।
২০১৯ সালের ২৭ ডিসেম্বর সকালে শামীম হালিমাকে নওগাঁর মহাদেবপুরে তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর পরিবারের সদস্যরা হালিমার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও শামীম বিভিন্ন অজুহাত দেখাতে থাকেন।
এর দুই দিন পর ২৯ ডিসেম্বর নওগাঁ সদর মডেল থানার পুলিশ হালিমার বাবাকে ফোন করে জানায়, কীর্ত্তীপুর ইউনিয়নের তেলপুকুর এলাকার একটি ধানখেতে হালিমার মরদেহ পড়ে আছে। পরে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গলা কাটা এবং মুখ ও পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাতসহ তার মরদেহ শনাক্ত করেন। এ সময় শামীম পলাতক ছিলেন।
এ ঘটনায় হালিমার বাবা বাদী হয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় শামীমের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ২০১ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয় ২০২২ সালের ১৩ মার্চ।
মামলার অভিযোগপত্রে ২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্য আদালতে উপস্থাপন করা হয়। আসামিও আত্মপক্ষ সমর্থনে সাফাই সাক্ষ্য দেন।
উভয় পক্ষের সাক্ষ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামি মোঃ শামীম সরদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর মোঃ শাহরিয়ার। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোঃ এমরান হোসেন।
Leave a Reply