
বিশুদ্ধ পানির অপর নাম জীবন! পানির জন্য পাহাড়ে বসবাসরত জনগোষ্ঠি মানুষেরা মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করতে হয়। কোথাও কোথাও সুপেয় পানির ব্যবস্থা না থাকায় ছড়া-ঝিরি-ঝনার পানি পান করতে হয়। খাগড়াছড়ি ২০৩পদাতিক ডিভিশন রিজিয়নের উদ্যোগে দীঘিনালা জোনের বাস্তবায়নে বাবুছড়া ইউনিয়নের দূর্গম ৭নং ওয়ার্ডের বাঙাল্যা করুনা পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে গভীর নলকূপ বসিয়ে দিয়ে শতাধিক পরিবারের সুপেয় পানির ব্যবস্থা করে দিয়েছে।
সোমবার(২২জুন) সকালে দীঘিনালা জোন অধিনায়ক লে: কর্নেল মো: আল আমিন বাবুছড়া ইউনিয়নের দূর্গম ৭নং ওয়ার্ডের বাঙাল্যা করুনা পাড়ায় গিয়ে গভীর নলকূপটি উদ্বোধন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, বাবুছড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গগন বিকাশ চাকমা, ৭নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ৭,৮ও ৯নং ওয়ার্ড নারী সদস্য স্বাগত চাকমা প্রমূখ।
উদ্বোধনকালে জোন কমান্ডার লে: কর্নেল মো: আল আমিন বলেন, দূর্গম বাঙাল্যা করুনা পাড়া ও বিন্দু কুমার কার্বারী পাড়ায় শতাধিক পরিবারের মাঝে সেনাবাহিনী সুপেয় পানির ব্যবস্থা করে দিয়েছে। এই এলাকায় সুপেয় পানির খুব সমস্যা ছিল। এছাড়া চিকিৎসা সেবা জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক ও যোগাযোগের জন্য রাস্তা ব্যবস্থা হবে বলে আসস্থ করেন।
বাবুছাড়া ইউপি চেয়ারম্যান গগন বিকাশ চাকমা বলেন, বাবুছড়া ইউনিয়নের বেশি ভাগ ওয়ার্ড দূর্গম সুপেয় পানির সমস্যা ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নাই বল চলে। নদী পথে আসা-যাওয়া করতে হয়ে। দীঘিনালা জোনের পক্ষথেকে দূর্গম দূর্গম বাঙাল্যা করুনা পাড়া ও বিন্দু কুমার কার্বারী পাড়ায় শতাধিক পরিবারের মাঝে সেনাবাহিনী সুপেয় পানির ব্যবস্থা করে দিয়েছে এতে এলাকার মানুজনের অনেক উপকৃত হয়েছে। উপকারভোগী পুতুলি চাকমা বলেন, আমরা নদী-ঝিরি-ঝরনা থেকে পানি সংগ্রহ করে পান করতাম। নলকূপ বসালে পানি উঠত না আর উঠলেও আইরনের কারনে ব্যবহার করা যেত না। এখন দীঘিনালা সেনাবাহিনী একটি সোলার সিস্টেম গভীর নলকূপ বসিয়ে দিয়েছে। এখন ভালো পানি উঠতেছে, সুপেয় পানি পান ও ব্যবহার করতে পারব। স্থানীয় বাসিন্দা পূর্ন বালা চাকমা বলেন, সেনাবহিনী পানির ব্যবস্থা করে দিয়েছে, কিন্তু আমার অসুস্থ হলে একপাতা নাপা আনতে খরচ হয় ১শত ৬০টাকা, পানি পথে হয়। আমাদের পাড়ায় একটি কমিউনিটি ক্লিনিক বসালে ভালো হবে। সেনাবাহিনী অনেক ভালো কাজ করে তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।
স্থানীয় ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ড মহিলা সদস্য ইউপি স্বাগত চাকমা বলেন, বাবুছড়া ইউনিয়নের এই তিনটি ওয়ার্ড খুবই দূর্গম নলকূপ বসানো যায় না, স্থানীয়রা ঝিরি-ঝরনা-নদী ও ছড়ার পানি পান করে ও ব্যবহার করে। দীঘিনালা জোনের থেকে একটি গভীর নলকূপ বসিয়ে দিয়েছে এলাকার মানুষের অনেক উপকার হয়েছে। সেনাবাহিনীকে অনেক অনেক সাধুবাদ জানাই।
Leave a Reply