1. online@69bd.tv : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. admin@69bd.tv : admin :
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৯ পূর্বাহ্ন

ভ্যাপসা গরমে গোপালপুরে বাড়ছে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি, সতর্ক থাকার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

এস কে শিপন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬
  • ৫২ বার পঠিত

দেশজুড়ে চলমান তীব্র ভ্যাপসা গরম ও উচ্চ আর্দ্রতার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলাতেও, যার ফলে সাধারণ মানুষের জনজীবন ও স্বাস্থ্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে। তীব্র গরমে উপজেলাজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসকদের মতে, এই অসহ্য গরমে হিট স্ট্রোক, তীব্র পানিশূন্যতা, হিট এক্সহসশন বা শারীরিক ক্লান্তি, ডায়রিয়া, ফুড পয়জনিং বা খাদ্যবাহিত রোগ এবং অতিরিক্ত ঘামের কারণে ঘামাচি ও ছত্রাকজনিত চর্মরোগের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে কোমলমতি শিশু, প্রবীণ বা বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং যারা ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগছেন, তারা এই বৈরী আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত গরমে দীর্ঘ সময় অবস্থান করা এবং অতিরিক্ত ঘামের কারণে মানব শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে প্রয়োজনীয় পানি ও খনিজ লবণ বের হয়ে যায়, যার ফলে প্রাথমিকভাবে তীব্র পানিশূন্যতা, শরীর দুর্বল হয়ে পড়া, মাথা ঘোরা এবং মাংসপেশিতে ব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। একই সঙ্গে কেউ যদি দীর্ঘ সময় প্রখর রোদে অবস্থান করেন, তবে তার হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়, যা সময়মতো চিকিৎসা না পেলে মারাত্মক বা জীবনঘাতী আকার ধারণ করতে পারে। তাছাড়া, গ্রীষ্মের এই তীব্র গরমে খাবার খুব দ্রুত নষ্ট বা বাসি হয়ে যায়, যা অসাবধানতাবশত গ্রহণের ফলে ডায়রিয়া, আমাশয় ও খাদ্যে বিষক্রিয়ার (ফুড পয়জনিং) আশঙ্কা বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়।
এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এবং সুস্থ থাকতে বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু জরুরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, এই সময়ে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি, এবং অতিরিক্ত ঘাম হলে শরীরের লবণের ঘাটতি পূরণে খাবার স্যালাইন (ওরস্যালাইন) বা ডাবের পানি গ্রহণ করা উচিত। বাইরে চলাচলের সময় শরীর ঠান্ডা রাখতে হালকা রঙের, ঢিলেঢালা সুতি পোশাক পরিধান করা এবং খুব বেশি প্রয়োজন না হলে তীব্র রোদের সময় (বিশেষ করে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত) অপ্রয়োজনে বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। পাশাপাশি, বাসি ও অস্বাস্থ্যকর খোলা খাবার সম্পূর্ণ পরিহার করা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং শরীরে অতিরিক্ত দুর্বলতা, তীব্র মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে দ্রুত নিকটস্থ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভ্যাপসা গরমে আতঙ্কিত না হয়ে সামান্য সচেতনতা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমেই গরমজনিত অধিকাংশ রোগব্যাধি প্রতিরোধ করা সম্ভব।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2019
Design By Raytahost