
আব্দুল হাকিমের যোগদানপত্রে নাম পরিবর্তন করে কুড়িগ্রাম বনবিভাগের আওতায় রাজারহাট অফিসে মালী পদে দীর্ঘদিন চাকুরি করেছেন আব্দুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। দীর্ঘদিন চাকুরী করে অবসরেও যান তিনি। অবৈধভাবে চাকুরী করে আসা আব্দুর রহমানের অবসরকালীন ভাতা সুবিধা প্রাপ্তীর দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আব্দুল হাকিম। বুধবার দুপুরে উপজেলামোড়স্থ পন্ডিত পাঠাগারে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলাধীন রমনা ইউনিয়নের গুয়াতিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হাকিম। লিখিত বক্তবে তিনি জানান, ১৯৯৪ সালে বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সিলেট বনরক্ষকের দপ্তরে থানা বনায়ন ও নার্সারি প্রকল্পে মালী পদে পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। ১৯৯৭সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী তারিখে উপকূলীয় বনবিভাগ চট্টগ্রাম থেকে ৯৭টি নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। সেই সময়ে পোস্টম্যানের ভুলের কারণে নিয়োগপত্র হাতে পাননি আব্দুল হাকিম। পরবর্তী সময়ে ২০১৪সালে হাইকোর্টে চাকরি স্থায়ীকরণের রায় হলে আব্দুল হাকিম জানতে পারেন একই গ্রামের আব্দুর রহমান তার পদে চাকরি করে আসছেন। নিয়োগের কপি উঠানো হলে সেখানে দেখতে পান নামের জায়গায় ঘষামাজা করা এবং পিতার নাম কাটা রয়েছে।
বিষয়টি জানার পর কুড়িগ্রাম,রাজারহাট,চট্টগ্রাম,ঢাকাসহ বনবিভাগের বিভিন্ন দপ্তরে ধর্না দিয়েও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
আব্দুল হাকিম বলেন, আমার যৌবনকাল শেষ কিন্তু আমার ওপর যে অন্যায় হয়েছে তার বিচার চাই।
তিনি বলেন,আমি পরীক্ষা দিয়েছি। আব্দুর রহমান কোনো পরীক্ষা দেয় নাই। আমার হাইকোর্টের রায় আছে। আমার যোগদানপত্র পরিবর্তন করে দীর্ঘদিন চাকরি করেছে সে। আমার সঙ্গেই পরীক্ষা দেওয়া লোক মো.রফিকুল ইসলাম ১৪৮নং নিয়োগপত্রে চাকরি করছেন। আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সব জায়গায় বিচার চেয়েছি। কিন্তু অন্যায়ভাবে চাকরি করে আসা আব্দুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা আমাকে মেরে ফেলার হুমকিসহ অনেক রকম অত্যাচার করে আসছে। আব্দুর রহমান ২০২৫ সালে চাকুরী শেষ করে অবসরে যায় এবং মৃত্যুবরণ করে। আব্দুর রহমান যোগদান পত্রে নাম বদলিয়ে অন্যায়ভাবে চাকুরী করেছেন। তাই তার অবসরকালীন ভাতাদীসহ সুবিধা প্রাপ্তীর দাবী জানান তিনি।
Leave a Reply