
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে জামিরুল ইসলাম (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে বাড়ির সামনে থেকে ডেকে নিয়ে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে মারধর, চাকু দিয়ে পায়ে আঘাত এবং প্লাস দিয়ে নখ উপড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) এ ঘটনায় জামিরুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. শিরিনা বেগম বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে জামিরুল ইসলামকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের মারিয়া সাহেববাড়ী এলাকার বসতবাড়ির সামনে থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে মারিয়া মৌজার বাস্তাগাড়ী চরে নিয়ে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রড দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, ধারালো চাকু দিয়ে জামিরুলের দুই পায়ের হাঁটুর নিচে আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয় এবং কাটা স্থানে লবণ দেওয়া হয়। পরে প্লাস দিয়ে দুই পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলের নখ ও বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙুলের নখ উপড়ে ফেলার অভিযোগও করা হয়েছে। এছাড়া লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর করে তার দুই হাতের কব্জি, আঙুলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাড়ভাঙা ও গুরুতর জখম করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
একপর্যায়ে জামিরুল নিস্তেজ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে আসামিরা তাকে মৃত মনে করে মারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে ফেলে রেখে চলে যায় বলে অভিযোগ করেন বাদী।
পরদিন শনিবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় জামিরুলকে ওই স্থান থেকে মুমূর্ষু ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে অচেনা একটি অটোভ্যানে করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এজাহার অনুযায়ী, চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও তার জ্ঞান ফেরেনি।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply